1. [email protected] : admin2021 :
  2. [email protected] : Sports Zone : Sports Zone
বুধবার, ১১ মে ২০২২, ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন

বিখ্যাত ৫ ডায়মন্ড ডাকের ঘটনা

  • আপডেট সময় রবিবার, ২২ আগস্ট, ২০২১
  • ৬১ বার পড়া হয়েছে

ডাক, গোল্ডেন ডাক তো অনেকই শুনেছেন। কিন্তু এদের চেয়েও বিখ্যাত আরেক ডাক আছে, ডায়মন্ড ডাক! একজন ব্যাটসম্যানের চরম দুর্ভাগ্যের প্রতীক হিসেবে ধরা হয় এই ডায়মন্ড ডাককে। কোন বল খেলার আগেই আউট হয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরত যাওয়ার নামই হল ডায়মন্ড ডাক। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে রান আউটের কারনেই এই ডায়মন্ড ডাক। ক্রিকেট ইতিহাসে ডায়মন্ড ডাকের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়, তবে আজ আপনাদের শোনাবো ইতিহাসের বিখ্যাত পাঁচ ডায়মন্ড ডাকের কথা।

 

 

অ্যালবার্ট রোস-ইনস : সাউথ আফ্রিকা বনাম ইংল্যান্ড, কেপটাউন, ১৮৮৯-: প্রথম বলে বিনা রানে আউট হওয়ার 0মধ্যেই একটা অপমানজনক ব্যাপার আছে। কোন বল না খেলেই আউট হওয়ার মধ্যে সেই অপমান আরও বেশি। আর সেটা যদি হয় আপনার দেশের প্রথম টেস্ট ম্যাচেই? লজ্জা আর অপমানের পর্যায়টা ভাষায় বর্ণনা করা মুশকিলই হয়ে পড়ে তখন! এমন অভিজ্ঞতারই মুখোমুখি হয়েছেন সাউথ আফ্রিকার অ্যালবার্ট রোস-ইনস। দেশের প্রথম টেস্ট খেললে এমনিতেই অনেক ধরনের রেকর্ড হয়ে যায়, রোস-ইনসের কপালে জুটেছে লজ্জার রেকর্ডটাই। দেশের হয়ে প্রথম ডাকের রেকর্ড!
এখানে থামলেও তাই ভালই ছিল, পরের ম্যাচে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন রোস-ইনস, দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে একেবারে বৈশ্বিক রেকর্ডই করে ফেললেন! রেকর্ডটা আরও বেশি লজ্জার, টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসেই প্রথম ডায়মন্ড ডাকের মালিক হওয়ার রেকর্ড। আরও আশ্চর্যের বিষয়, রোস-ইনস তখনও জানতেন না তিনি এই অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের মালিক হয়ে গেছেন! ম্যাচটিকে প্রথমে আন্তর্জাতিক ম্যাচের মর্যাদা দেয়া হয়নি। পরে যখন দেয়া হল, তখন রোস-ইনসই হয়ে গেলেন টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম ডায়মন্ড ডাক পাওয়া ব্যাটসম্যান।
ডায়মন্ডের সাথে রোস-ইনসের সখ্যতা অবশ্য এটাই প্রথম এবং একমাত্র নয়। কিম্বার্লির হীরার খনিতে সত্যিই সত্যিই কাজ করেছেন এই সাউথ আফ্রিকান। তবে ইতিহাস তাকে একেবারেই খালি হাতে ফেরায়নি। প্রথম ডায়মন্ড ডাকের রেকর্ডের পাশাপাশি সাউথ আফ্রিকার হয়ে টেস্টে প্রথম ৫ উইকেট পাওয়ার কীর্তিটিও যে রোস-ইনসেরই!

 

 

 

এডো ব্রান্ডেস : নিউজিল্যান্ড বনাম জিম্বাবুয়ে, হায়দ্রাবাদ, ১৯৮৭-: আপনার দল বিশ্বকাপে খেলছে, একটা অঘটন ঘটানোর মত অবস্থায়ও আছে। সেটি আবার আপনার অভিষেক ম্যাচ। সেই সময়ে ব্যাট করতে নেমে ডায়মন্ড ডাকের শিকার হলে আপনার কেমন লাগবে? জিম্বাবুয়ের এডো ব্রান্ডেসকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন। এই অভিজ্ঞতা যে তারই হয়েছিল!
নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে তখনো পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের জয় মোটে একটা। এই ম্যাচেও নিউজিল্যান্ডের দেয়া ২৪৩ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ১০৪ রানেই হারিয়ে ফেলেছিল ৭ উইকেট। হারই যখন মনে হচ্ছিল একমাত্র পরিণতি, তখন ডেভিড হটনের ১৩৭ বলে ১৪২ রানের দারুণ ইনিংসে ম্যাচে প্রাণ ফেরে। মার্টিন ক্রো’র অসাধারণ ক্যাচ হয়ে হটন ফিরে গেলেও জিম্বাবুয়ের জয়ের প্রদীপ তখনো টিমটিম করে জ্বলছে। জয়ের জন্য যখন ২২ রান দরকার, তখন ক্রিজে এলেন ব্রান্ডেস। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ক্রিজে আসার মিনিট খানেকের মধ্যেই আবারো ড্রেসিংরুমের ফিরতি পথ ধরতে হলো তাকে!
উইকেটে থাকা সেট ব্যাটসম্যান ইয়ান বুশার্ট স্ট্রাইক ধরে রাখার জন্য মিড অনে ক্রোয়ের হাতে বল রেখে পড়িমরি করে কুইক সিঙ্গেলের কল দিলেন। ফলাফল, কোন বল না খেলেই রান আউট ব্রান্ডেস। বুশার্ট পরে স্বীকার করেছিলেন দোষটা তারই ছিল, ওটা সিঙ্গেল না নিলেও পারতেন তিনি। ব্রান্ডেসের নিজের দাবি, ভারতের গরম ও আর্দ্র কন্ডিশনের সাথে পরিচয় না থাকায় রানটা শেষ করতে পারেননি তিনি। অন্য কোন কন্ডিশন হলে তিনি রান আউট হতেন না বলেই বিশ্বাস তার।
শেষ পর্যন্ত বুশার্টের ফিফটির পরেও জিম্বাবুয়ে থেমে যায় ৪ রান আগেই। ব্রান্ডেস পরের দুইটি ম্যাচ মিস করেন, জিম্বাবুয়েও তাদের গ্রুপ পর্বের ছয়টি ম্যাচেই হারে। পাঁচ বছর পরে এই ব্রান্ডেসই অবশ্য জ্বলজ্বল করে জ্বলেছেন জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট আকাশে।

 

 

 

অ্যালান ডোনাল্ড : অস্ট্রেলিয়া বনাম সাউথ আফ্রিকা, এজবাস্টন, ১৯৯৯-: এই ম্যাচের অ্যালান ডোনাল্ডকে যুগ যুগ মনে রাখার মত যথেষ্ট উপাদান ছিল। বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচ, দলের মূল স্ট্রাইক বোলারের দায়িত্বটা পালন করেছিলেন সুনিপুণভাবে। রিকি পন্টিং ও ড্যারেন লেম্যানের উইকেট সহ নিয়েছিলেন মোট চার উইকেট। অথচ সেই ডোনাল্ডকেই কিনা এই ম্যাচে মনে করতে হয় সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য!
বাকি ঘটনা তো সবারই জানা। ডেমিয়েন ফ্লেমিংয়ের শেষ ওভার থেকে সাউথ আফ্রিকার দরকার ৯ রান, প্রথম দুই বলেই দুই চার মেরে খেলা হাতের নাগালে এনে দিলেন ল্যান্স ক্লুজনার। তৃতীয় বলে মিড অনে লেম্যানের হাতে মারলেন ক্লুজনার, অতি উৎসাহী ডোনাল্ড বেঁচে গেলেন অল্পের জন্য। কিন্তু এই যাত্রায় বেঁচে গেলেও পরেরবার আর বাঁচতে পারলেন না। চতুর্থ বলে বল মেরেই প্রাণপণে ছুটলেন ক্লুজনার, কিন্তু ক্রিজ আঁকড়ে দাঁড়িয়ে রইলেন ডোনাল্ড। ফলাফল, নিজে তো ডায়মন্ড ডাক পেলেনই, সাথে দলও ছিটকে গেল বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকেই।
ডোনাল্ড পরে জানিয়েছেন, এই ঘটনায় এতটাই ট্রমাটাইজড হয়ে পড়েছিলেন তিনি, বারবার এই রান-আউটের ভিডিও দেখতে শুরু করে দিয়েছিলেন তিনি। তবে সাউথ আফ্রিকার বিশ্বকাপ ভাগ্যে শিকে ছিড়েনি এরপর আর কোন বিশ্বকাপেই। সর্বশেষ ২০১৫ বিশ্বকাপেও সেমিফাইনালে উঠে নিউজিল্যান্ডের কাছে হৃদয়বিদারক হারে বিদায় নিতে হয়েছে প্রোটিয়াদের।

 

 

 

মন্টি পানেসার : ইংল্যান্ড বনাম সাউথ আফ্রিকা, ওভাল ২০০৮-: ২০০৮ সালের ওভাল টেস্টের কথা। নবম উইকেটে ৫৩ রানের জুটি গড়ে ফেলেছেন স্টিভ হার্মিসন ও জেমস অ্যান্ডারসন। এই অবস্থায় পল হ্যারিসের সোজা একটি বল না খেলে ছেড়ে দিলেন অ্যান্ডারসন, এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরত গেলেন ড্রেসিংরুমে। হার্মিসন তখন নিজের প্রথম টেস্ট ফিফটির সুবাস পাচ্ছেন। কিন্তু তার দুর্ভাগ্য, অপর পাশে সঙ্গী যে মন্টি পানেসার, ব্যাটিং দক্ষতার কারণে যিনি মোটেই সুপরিচিত নন!
আন্দ্রে নেলের বল কভারে ঠেলে দিয়েই পানেসারের প্রতি ‘ইয়েস রান, রান, রান’ বলে দৌড় শুরু করেন হার্মিসন। কিন্তু পানেসার আর পৌঁছাতে পারেননা পপিং ক্রিজ অব্দি। আম্পায়ার স্টিভ ডেভিস থার্ড আম্পায়ারের শরণাপন্ন হলেও পানেসার যে আউট, সেটা বুঝতে বাকি ছিল না কারোরই।
এই এক রান আউটে হার্মিসন যেমন নিজের প্রথম টেস্ট ফিফটি থেকে বঞ্চিত হন, তেমনি পানেসারও হয়ে যান ইংল্যান্ডের প্রথম ডায়মন্ড ডাক পাওয়া খেলোয়াড়। পরে অবশ্য বল হাতে দুজনেই তা পুষিয়ে দিয়েছিলেন। হার্মিসন নিয়েছিলেন হাশিম আমলা ও জ্যাক ক্যালিসের উইকেট, আর পানেসার নিয়েছিলেন এ.বি.ডি ভিলিয়ার্স ও মরনে মরকেলের উইকেট। ইংল্যান্ডও জিতে নিয়েছিল সেই টেস্ট ম্যাচ। তবে আশ্চর্যের বিষয় হল, এরপর আর কখনোই টেস্ট ফিফটির দেখা পাননি হার্মিসন, টেস্টে আর কখনো রান আউট হননি পানেসারও!

 

 

 

জশ হ্যাজলউড : নিউজিল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়া, ইডেন পার্ক, ২০১৭-: ডায়মন্ড ডাক এমনিতেই খুব বেশি ঘটে না, অল্প বিস্তর যা ও ঘটে, তার মধ্যে হ্যাজলউডের ডাক টা এক দিকে থেকে অনন্য। সবচেয়ে বেশি সময় উইকেটে থেকে ডায়মন্ড ডাক পাওয়ার রেকর্ডটি যে অস্ট্রেলিয়ান এই পেসারেরই। ২৬ মিনিট উইকেটে থেকেও একটি বল খেলার সৌভাগ্য হয়নি তার, বরং পেয়েছেন ডায়মন্ড ডাক!
দশম উইকেটে মার্কাস স্টোইনিস আর জশ হ্যাজলউড মিলে যোগ করেছিলেন ৫৪ রান। স্কোরকার্ড বলবে, জুটিতে স্টোইনিসের অবদান ৪৮ রান, আর অতিরিক্ত থেকে এসেছে ৬ রান, হ্যাজলউডের কোন অবদান নেই। কিন্তু অবদান নেই বললে তা হবে হ্যাজলউডের প্রতি অবিচার। ২৬ টা মিনিট উইকেটে দাঁড়িয়ে থেকে স্টোইনিসকে মারার সুযোগ তো করে দিয়েছেন!
শেষ পর্যন্ত কেন উইলিয়ামসনের তড়িৎ গতির এক রানআউটে থামে স্টোইনিসের অসাধারণ কাউন্টার অ্যাটাক। নিজেকে দাঁড় করিয়েছিলেন স্ট্রেইট শর্ট মিড অনে। টিম সাউদির বল সোজা তার হাতে আসতেই হ্যাজলউডের অসাবধানতার সুযোগ নিয়ে দ্রুতগতিতে স্ট্যাম্প ভেঙে দেন উইলিয়ামসন। ফলে নিউজিল্যান্ডের ২৮৬ তাড়া করতে নেমে ২২৬ রানেই ৯ উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়া শেষ পর্যন্ত থামে ৬ রান দূরত্বে, স্টোইনিস অপরাজিত থাকেন ১১৭ বলে অপরাজিত ১৪৬ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে। হ্যাজলউড ক্ষণিকের অসতর্কতা না দেখালে হয়তো ট্র্যাজিক হিরো না, ম্যাচটা জিতে নায়ক হিসেবেই বের হতে পারতেন স্টোইনিস!

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2021 SportsZonebd
Theme Customized By BreakingNews