1. [email protected] : admin2021 :
  2. [email protected] : Sports Zone : Sports Zone
সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ০৯:৫৪ অপরাহ্ন

দুই জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

  • আপডেট সময় বুধবার, ১৮ আগস্ট, ২০২১
  • ৫২ বার পড়া হয়েছে

ফরিদপুর সদর উপজেলার তিন ইউনিয়নের ৮ গ্রাম এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ১৫ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী।

গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। প্লাবিত হয়েছে ফরিদপুরের কয়েকটি গ্রাম। তলিয়ে গেছে বিভিন্ন সড়ক। গতকাল দুপুরে ফরিদপুর সদর উপজেলার কাইমউদ্দিন মাতুব্বরের ডাংগী এলাকায়
পদ্মা নদীতে পানি বেড়ে ফরিদপুর ও কুষ্টিয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এ দুই স্থানের ২৩ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। ফরিদপুর সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের আটটি গ্রামের এক হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

 

 

গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ফরিদপুর সদরের নর্থ চ্যানেল, ডিক্রিরচর ও চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে ওই চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গোলডাডাঙ্গী সড়কের জামাল সিকদারের বাড়ির কাছে ১০০ মিটার, জাফর প্রামাণিকের বাড়ির সামনে
৫০ মিটার, জলিল শেখের বাড়ির সামনে ১৫০ মিটার এবং নিকিলী হাওর এলাকার অন্তত ৫০০ মিটারসহ সড়কের ৮০০ মিটার অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে।

 

 

 

 

পানিতে তলিয়ে গেছে নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের কাইমুদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী, বরান বিশ্বাসের ডাঙ্গী, বাসের মোল্লার ডাঙ্গী, শুকুর আলী মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামগুলো। এ ছাড়া পাশের ডিক্রির চর ইউনিয়নের আয়জদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রাম এবং চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের চর বালুধুম, বাঘের টিলা ও লালার গ্রমের এক হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

 

 

 

আয়জদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের সুলতান খাঁ (৬৭) বলেন, পানি বাড়ার সাথে সাথে ফসলের ক্ষতি আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ জন্য এলাকার মানুষ দ্রুত পাট কাইটা ফেলাইতেছে। যে আউশ ধান মাঠে আছে, তা নিয়াও সমস্যায় আছি।

নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান বলেন, তাঁর ইউনিয়নে চার শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ডিক্রিরচর ইউপির চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান জানান, তাঁর ইউনিয়নের তিন শতাধিক পরিবার পানিবন্দী।

জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, গতকাল সন্ধ্যাটা পর্যন্ত গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মার পানি ১৮ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

ফরিদপুর সদরের ইউএনও মাসুম রেজা বলেন, এলাকাবাসীকে সচেতন করার জন্য ওই তিনটি ইউনিয়নে মাইকিং করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সেখানে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের দেড় হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। দুদিন ধরে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে।

 

 

 

 

গতকাল দিনব্যাপী গ্রামগুলো নৌকা করে ঘুরে দেখেন দৌলতপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবদুল হান্নান। তিনি
বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে অন্তত দেড় হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে খাদ্যসহায়তা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকা করে দিতে বলা হয়েছে। আর পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে আর এক–দুই ফুট পানি বাড়লে সব বাড়িঘর পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়বে।

পাউবো সূত্র জানায়, তিন–চার দিন ধরে পদ্মা নদীর পানি বাড়তে থাকে। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার হার্ডিঞ্জ সেতু পয়েন্টে গতকাল সকাল ছয়টায় পদ্মার পানি বিপৎসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। প্রতিদিন গড়ে পদ্মায় ১০ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে।

 

 

 

 

রামকৃষ্ণপুর ইউপির চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল বলেন, পানিতে অন্তত ৬০ ভাগ বসতবাড়ি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এসব গ্রামের বিপুলসংখ্যক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

দৌলতপুরের ইউএনও শারমিন আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, গ্রামে পানি ঢোকার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে পিআইওর নেতৃত্বে একটি দল পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসককেও জানানো হয়েছে। ওই এলাকাসহ আশপাশের ইউনিয়নগুলোতে নজর রাখা হচ্ছে।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2021 SportsZonebd
Theme Customized By BreakingNews