1. [email protected] : admin2021 :
  2. [email protected] : Sports Zone : Sports Zone
শুক্রবার, ১৩ মে ২০২২, ০২:১৩ অপরাহ্ন

আর্জেন্টিনার সেরা ১০ তারকা

  • আপডেট সময় সোমবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৬৭ বার পড়া হয়েছে

 

 

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফুটবল দল আর্জেন্টিনা। এই দলটির নাম বলতেই ভেসে ওঠে ডিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসির ছবি। সর্বকালের সেরা কে, সেই তুলনাতেও চলে আসে দুজনের নাম। শুধু তারাই নয়, আলবিসেলেস্তের জার্সিতে মাঠ দাপিয়ে বেড়িয়েছেন আরও অনেকেই।

কোপা আমেরিকায় রোববার রিও ডি জেনেইরোর মারাকানা স্টেডিয়ামে ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টিনার সেরা ১০ খেলোয়াড়কে তুলে ধরার প্রচেষ্টা

 

 

ডিয়েগো ম্যারাডোনা: দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা ৩০ অক্টোবর ১৯৬০ – ২৫ নভেম্বর ২০২০ দিয়েগো মারাদোনা নামে সুপরিচিত) একজন আর্জেন্টিনীয় পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড় এবং ম্যানেজার ছিলেন। ভক্তদের কাছে এল পিবে দে অরো (সোনালী বালক) ডাকনামে পরিচিত মারাদোনা তার খেলোয়াড়ি জীবনের অধিকাংশ সময় আর্জেন্তিনোস জুনিয়র্স এবং নাপোলির হয়ে একজন মধ্যমাঠের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেছেন। তিনি মূলত একজন আক্রমণাত্মক মধ্যমাঠের খেলোয়াড় হিসেবে খেললেও মাঝেমধ্যে দ্বিতীয় আক্রমভাগের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেছেন। বহু ফুটবল খেলোয়াড় এবং বিশেষজ্ঞ তাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে গণ্য করেন। মারাদোনাকে ক্রীড়া জগতের সবচেয়ে বিতর্কিত এবং গণমাধ্যমে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গের অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৯১ সালে ইতালিতে মাদক পরীক্ষায় কোকেইনের জন্য ধরা পড়ায় তাকে ১৫ মাসের জন্য ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। ১৯৯৪ ফিফা বিশ্বকাপে ইফিড্রিন পরীক্ষায় ইতিবাচক ফলাফলের জন্য তাকে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়া হয়। ২০০৫ সালে তিনি তার কোকেইন নেশা ত্যাগ করেন। তার কড়া রীতির জন্য সাংবাদিক-ক্রীড়া বিশেষজ্ঞ এবং তার মধ্যে বেশ কিছু সময় মতভেদের সৃষ্টি হয়েছে।

১৯৬৭–৬৮ মৌসুমে, আর্জেন্টিনীয় ফুটবল ক্লাব এস্ত্রেয়া রোহার যুব পর্যায়ের হয়ে খেলার মাধ্যমে মারাদোনা ফুটবল জগতে প্রবেশ করেন এবং পরবর্তীতে লস সেবোয়িতাস এবং আর্জেন্তিনোস জুনিয়র্সের যুব দলের হয়ে খেলার মাধ্যমেই তিনি ফুটবল খেলায় বিকশিত হয়েছেন। ১৯৭৬–৭৭ মৌসুমে, আর্জেন্টিনীয় ফুটবল ক্লাব আর্জেন্তিনোস জুনিয়র্সের মূল দলের হয়ে খেলার মাধ্যমে তিনি তার জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের খেলোয়াড়ি জীবন শুরু করেন; আর্জেন্তিনোস জুনিয়র্সের ৫ মৌসুমে ১৬৭ ম্যাচে অংশগ্রহণ করার পর তিনি প্রায় ১.৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে আরেক আর্জেন্টিনীয় ক্লাব বোকা জুনিয়র্সে যোগদান করেন। বোকা জুনিয়র্সে মাত্র ১ মৌসুমে একটি লীগ শিরোপা জয়লাভ করার পর, প্রায় ৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে (যা উক্ত সময়ের বিশ্ব রেকর্ড ছিল) স্পেনীয় ক্লাব বার্সেলোনায় যোগদান করেন; যেখানে সেসার লুইস মেনোতির অধীনে তিনি তিনটি শিরোপা জয়লাভ করেছেন। বার্সেলোনার হয়ে ২ মৌসুমে সকল প্রতিযোগিতায় ৪৫ ম্যাচে ৩০টি গোল করার পর, প্রায় ৭ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে ইতালীয় ক্লাব নাপোলিতে যোগদান করেন; এই স্থানান্তরের মাধ্যমে মারাদোনা পুনরায় বিশ্ব রেকর্ড করেন। মারাদোনা ফুটবল ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে দুইবার স্থানান্তরের বিশ্বরেকর্ড ভঙ্গ করেছেন। পরবর্তীতে, তিনি সেভিয়া এবং নিওয়েলস ওল্ড বয়েজের হয়ে খেলেছেন। সর্বশেষ ১৯৯৫–৯৬ মৌসুমে, তিনি নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে পুনরায় বোকা জুনিয়র্সে যোগদান করেছিলেন, যেখানে তিনি ২ মৌসুম অতিবাহিত করে অবসর গ্রহণ করেছেন।
ফুটবল ঈশ্বর। এল পেলুসা, বিশ্বজুড়ে চিরভাস্বর তিনি। যে দলেই খেলেছেন, রেখেছেন কিংবদন্তিতুল্য স্বাক্ষর। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে তার বীরত্ব

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অবিস্মরণীয় দ্বিতীয় গোল তাকে দেশের ফুটবল ইতিহাসে সর্বকালের সেরা বানিয়েছে। আর নাপোলিতে তাকে মানা হতো আইডল, ইতালিয়ান ক্লাবকে আশির দশকে স্কুদেত্তো জিতিয়ে হয়ে গেছেন দলটির আইকন।

আর্জেন্টিনার সেরা হওয়ার দৌড়ে ম্যারাডোনা ও মেসির তুলনা কোনোদিনই শেষ হওয়ার নয়। দুজনই লিজেন্ড, নিজ নিজ জায়গায়। কিন্তু বিশ্বকাপ সাফল্য ম্যারাডোনাকে রেখেছে অনন্য অবস্থানে। গত বছরের ২৫ নভেম্বর না ফেরার দেশে চলে গেলেও ফুটবল ঈশ্বর থাকবেন সবার হৃদয়ে।

 

 

 

 

 

 

 

 

লিওনেল মেসি: আধুনিক যুগের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনা আর বার্সেলোনার শীর্ষ গোলদাতা। লা পুলগা, বাঁ পায়ের ড্রিবল দিয়েই ম্যারাডোনার সঙ্গে তুলনীয় হয়ে উঠেছেন।

বার্সার সঙ্গে অগণিত ট্রফির পাশাপাশি রেকর্ড ছয়টি ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুট ও ছয়টি ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। কেবল আন্তর্জাতিক একটি শিরোপা না জেতার আক্ষেপ। সেটা কি ঘুচাতে পারবেন ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড? এই কোপাতেই হয়তো শেষ সুযোগ!

 

 

 

 

 

 

আলফ্রেডো ডি স্টেফানো: রিয়াল মাদ্রিদে সন্ত মনে করা হয় ডি স্টেফানোকে। গতি, শক্তি ও অসাধারণ দক্ষতা তার। বলা হয়, মাঠের যে কোনও পজিশনে খেলতে পারার দারুণ ক্ষমতা তার রয়েছে। পঞ্চাশের দশকে ইউরোপ কাঁপানো রিয়ালের দলে ছিলেন প্রাণভোমরা।

দ্য ব্লন্ড অ্যারো তার ক্যারিয়ারে করেছেন আটশরও বেশি গোল এবং ২০০৩ সালে ফ্রান্স ফুটবল সাময়িকীর নির্বাচিত ৫০ বছরের চতুর্থ সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন। ২০১৪ সালে ৮৮ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

মারিও আলবার্তো কেম্পেস: বাবার পূর্ণ সমর্থনে হয়ে উঠেছিলেন ফুটবলার। বাবার সঙ্গে যেতেন অনুশীলনে। এল ম্যাটাডোর কেম্পেস’ তার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ৮ বছর বয়সে। ম্যারাডোনারও আগে আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক। দেশের বাইরে ফুটবল মাতানো একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে

সিজার লুইস মেনোত্তির দলে ডাক পেয়েছিলেন। ভ্যালেন্সিয়া তারকা তার কোচের আস্থার প্রতিদান দেন ৬ গোল করে, যার দুটি ছিল ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। কেম্পেসের ক্যারিয়ার শেষ হয় ৩০০টিরও বেশি গোলে। শহরের এই বিখ্যাত সন্তানের নামে সবচেয়ে বড় স্টেডিয়ামের নামকরণ করেছে কর্দোবা।

হুয়ান রোমান রিকুয়েলমে: হুয়ান রোমান রিকেল্‌মে জন্ম ২৪ জুন ১৯৭৮) একজন আর্জেন্টিনীয় ফুটবলার যিনি অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে বোকা জুনিয়র্সের হয়ে খেলেন। নিজের প্রজন্মের অন্যতম প্রতিভাবান এই ফুটবলার সৃষ্টিশীল পাসিং দক্ষতার কারণে অধিক পরিচিত। একজন প্লেমেকার হিসেবে, তার মধ্যে পাসিং, ড্রিবলিং এবং মাঝমাঠ থেকে গোল করার ক্ষমতা দারুনভাবে রয়েছে। তিনি তার কর্মজীবনের অধিকাংশ সময়ই কাটিয়েছেন বোকা জুনিয়র্সে, এছাড়া স্পেনে ভিয়ারিয়ালের হয়েও তিনি বেশ কিছু সময় কাটিয়েছেন। তিনি চারবার আর্জেন্টিনার বর্ষসেরা ফুটবলার নির্বাচিত হন। রিকেল্‌মে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে ২০০৬ বিশ্বকাপ এবং দুইটি কোপা আমেরিকায় অংশগ্রহণ করেন।
প্রতিভা, মেধা ও অধ্যাবসায়। এই শব্দগুলো দিয়ে রিকুয়েলমে ও তার ক্যারিয়ারকে সংজ্ঞায়িত করা যায়। বোকার নীল-হলুদ জার্সিতে অন্যতম সেরা হিসেবে ভাবা হয় তাকে। চারবার তাকে আর্জেন্টিনার বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত করে ফিফা।

 

 

 

 

 

 

 

 

গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা: ফিওরেন্তিনা ও রোমার সাবেক স্ট্রাইকার গোলমুখের সামনে ছিলেন ভয়ঙ্কর। জাতীয় দলের হয়ে ৭২ ম্যাচে গোল ৫৬। ২০০৫ সালে বুট তুলে রাখার সময় আর্জেন্টিনার সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতার আসনে ছিলেন,

কেবল মেসি পেছনে ফেলেন তাকে। ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে দুটি আলাদা বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করেন বাতিগোল। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ ১০ গোল তার নামের পাশে। জিতেছেন দুটি কোপা আমেরিকা। রোমার সঙ্গে ছুঁয়ে দেখেছেন স্কুদেত্তো।

জাভিয়ের মাসচেরানো: ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ খেলে যখন অবসর নেন জাভিয়ের মাসচেরানো, তখন তিনি দেশের সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলার। ১৪৭তম ম্যাচ খেলে আর্জেন্টিনাকে বিদায় বলেন, যা কয়েকদিন আগে ভেঙেছেন মেসি।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের হয়ে হতাশা আর ব্যর্থতা দেখেছেন মাসচেরানো। খেলেছেন তিনটি বিশ্বকাপ। অধিনায়কত্বের আর্মব্র্যান্ডও উঠেছিল তার বাহুতে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার প্রতিভা কোনোভাবেই খাটো করে দেখার নয়।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ড্যানিয়েল পাসারেল্লা: ১৯৭৮ সালে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ে আর্জেন্টিনার নেতৃত্বে ছিলেন ড্যানিয়েল পাসারেল্লা। ডাকনাম এল কাইজার- মাঠে ও মাঠের বাইরে ছিলেন সাবলীল চরিত্রের অধিকারী। উচ্চতার কারণে বন্ধুদের কাছে তো বটেই, শত্রুদেরও সমীহ আদায় করতেন।

ছিলেন অসাধারণ ডিফেন্ডার। কিন্তু গোল করার ক্ষমতাও ছিল। ক্লাব পর্যায়ে ৪৪৭ ম্যাচে করেন ১৪৪ গোল। আর আর্জেন্টিনার জার্সিতে ৭০ ম্যাচ খেলে গোল ২২টি। একমাত্র আর্জেন্টাইন হিসেবে দুটি বিশ্বকাপ জিতেছেন পাসারেল্লা- ১৯৭৮ সালের পর ম্যারাডোনার নেতৃত্বে ১৯৮৬ সালে।

উবালদো ফিল্লোল: প্রায় ৩০ বছরের গোলকিপিং ক্যারিয়ারে প্রায় পুরোটা সময় আর্জেন্টিনায় খেলেন উবালদো এল পাতো ফিল্লোল। দেশের বাইরে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য আতলেতিকো মাদ্রিদ ও ফ্লামেঙ্গোতে ছিলেন।

ক্লাব পর্যায়ে অবিশ্বাস্য সাফল্য ছিল তার। রিভার প্লেটের সঙ্গে জিতেছেন সাতটি লিগ শিরোপা। ৩৮ বছর বয়সেও তার পারফরম্যান্সের ধার কমতে দেখা যায়নি। রেসিংয়ে সুপারকোপা সুদামেরিকানার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে দারুণ অবদান রাখায় দেশের সেরা শট স্টপারের মর্যাদা পান।

১৯৭৪, ১৯৭৮ ও ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপ দলে ছিলেন। দেশের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের আসরে হয়েছিলেন সেরা গোলকিপার। পেনাল্টি ঠেকানোর সামর্থ্য তাকে এনে দেয় খ্যাতি। পেনাল্টির ২৫ শতাংশই তিনি ঠেকিয়েছেন তার লম্বা ক্যারিয়ারে।

 

 

 

 

 

 

 

 

সার্জিও আগুয়েরো: এই প্রজন্মের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে ধরা হয় সার্জিও আগুয়েরোকে। প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় তিনি। ২০১৭ সালের নভেম্বরে ম্যানসিটির সর্বকালের সেরা গোলদাতা হন নাপোলির বিপক্ষে ১৭৮তম গোল করে।

প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চতুর্থ শীর্ষ গোলদাতা এবং ইংল্যান্ডের বাইরের সবচেয়ে বেশি গোল করা ফুটবলার। ইংল্যান্ডের শীর্ষ ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে বেশি হ্যাটট্রিকের রেকর্ডও তার দখলে।

 

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2021 SportsZonebd
Theme Customized By BreakingNews